Posts

Showing posts from February, 2018

কাপড় ও যৌনতাঃ দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা

Image
এক. ‘বয়ইস ডি ভিনসিনেস’ প্যারিসে অবস্থিত বিশ্বের প্রথম নগ্ন পার্ক। গত বছর অক্টবরে পার্ক উদ্বোধন শেষে প্যারিসের ডেপুটি মেয়র ও সিটির পার্কগুলোর ইন চার্জ পেনিলোপ কোমিটিস জানান, যে কেউ চাইলে এই পার্কে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে শর্ত একটাই কাউকে জ্বালাতন করা যাবে না, কারো যৌনাঙ্গের দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না। সেটা আমরা শক্তভাবে দমন করবো। অপরদিকে প্যারিস নেচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের জুলিয়ান ক্লড বলেন, ‘এটি সত্যিকারের আনন্দের বিষয়, এটি প্রকৃতির জন্য আরো একটি স্বাধীনতা।’ আর নগ্নতাবাদীরা বলে এটা আমাদের বড় জয়। কারণ তারা এমন একটা জায়গার জন্য অনেক আন্দোলন করেছিলো। তারা মনে করে 'কাপড় পরা এক রকম প্রকৃতি বিরুদ্ধ কাজ। এটা একদিন উঠে যাবে।' দুই. বিশ্ব নারী দিবসে আমি এক নারী রেডিও জকিকে বলতে শুনি। "আমি একদিন পথ ধরে হাঁটছিলাম, এক দোকানদার আমার বুকের দিকে অনেক্ষণ ধরে তাকিয়ে ছিলো। আমি তার সামনে গিয়ে চেহারাটা দেখিয়ে বললাম এই যে আমার চেহারাটা দেখা যায় না? এটার দিকে তাকাবেন, কোন আপত্তি নেই। অন্য দিকে তাকালে না, চোখগুলো উপড়ে দিবো। লোকটাকে ভীষণ শাসালাম। যাইহোক আসল কথা হলো আমাদের ভিতর চেইঞ্জ আনতে হবে। এমন ...

লেখার অভিমান

Image
লেখার অভিমান নোমান বিল্লাহ ✍ ছোট্ট বেলা লিখতাম ছড়া মনের সখে যত, রোজনামচা লিখতে গিয়ে ডায়রি ভরে যেত। লেখার প্রতি নেশা ছিলো ছিলো বড় ঝোঁক, লিখতে গিয়ে ঘুমাতাম না রাত যতই গভীর হোক। যখন একটু বড় হলাম দিলাম লেখা ছেড়ে, লেখার নেশা চলে গেলো ফোনের মোহে পড়ে। ইদানীং তাই লিখতে বসি বাল্য স্মৃতির টানে, কিন্তু লেখা জেদ ধরেছে মানে অভিমানে। ০৩-০২-২০১৮ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

প্রকৃত ঈদ

Image
আর ক'দিন পরেই ঈদ। ঈদ মানে খুশি, আনন্দ। এই আনন্দ-খুশি অনেকের অনেকভাবে হয়ে থাকে। ছেলে-মেয়েরা ঈদ উদযাপন করে নিজেদের বায়না পূরণ করে। তাদের অভিভাবক বায়না পূরণ করে দিলেই তারা মহাখুশি। বড়রা ঈদ উদযাপন করে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ঘুরেফিরে। ব্যবসায়ীরা ঈদ উদযাপন করে ব্যবসার লাভ নিয়ে। শ্রমিক-চাকুরীজীবীরা ঈদ উদযাপন করে বোনাস পেয়ে। কেউ ঈদ উদযাপন করে দীর্ঘদিন পর গ্রামে গিয়ে সকলের সাথে দেখা সাক্ষাত করে। অনেকের আবার ঈদ হয় জুয়া খেলে কিংবা প্রেমময়ী সাক্ষাত দিয়ে। যাই হোক একেক জনের ঈদ হয় একেকভাবে কিন্তু প্রকৃত ঈদ কী তা কিন্তু অনেকেরই অজানা। মূলত রমজানের ঈদ হলো রোজাদারের জন্য। আর কুরবানীর ঈদ হলো পশু কুরবানকারীর জন্য। একজন রোজাদার সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকে, দীর্ঘ সময় রাতের নামাজ পড়ে। রোজা রাখার কারণে দৃষ্টি হেফাজত করে। গান-বাজনা ও সিনেমা দেখা বন্ধ করে। মিথ্যা, গিবত, চোগলখোরী ও বিভিন্ন পাপকাজ, হারামকাজ থেকে বিরত থাকে। সবশেষে যখন সে একটি রাত ও দিন শেষ করে ইফতারের মাধ্যমে, তখন তার মন আনন্দে পুলকিত হয়ে ওঠে। তাই তো আল্লাহ তা'আলা বলেন "রোজাদারের দু'টি খ...

বউ চোর

Image
খোচোর-মোচড় শব্দ পেয়ে চোখটি মেলে দেখছি, ঘরের দরজা খোলা দেখে চুরির গন্ধ পাচ্ছি। বাসর ঘরে নতুন বউ সবচে দামী বউখান, বউটাকে তাই কাছে পেয়ে বন্ধ রাখলাম চোখকান। সকালবেলা উঠে দেখি বউ তো আমার নেই পাশে, চুপ করে সে পালিয়েছে তারই প্রেমিকের সাথে। বউ হারিয়ে ভাবছি আমি এখন হবে কি উপায়? সবাই দুষে বলছে আমায় এই রাতে কি কেউ ঘুমায়? (আমি কিন্তু হাসছি না😃) ০৮-০২-২০১৮ ০৯:১৭ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

দাওরায়ে হাদিস ও মাস্টার্স

Image
১৭ বছরের মাস্টার্স বনাম ১০ বছরের দাওরায়ে হাদীস ♦আমি একই সাথে কওমি মাদরাসা ও আলিয়া মাদরাসার ছাত্র। রমজানের পর দাওরায়ে হাদিস পড়বো ইনশাআল্লাহ আর এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছি। সুতরাং আমিই ভালো করে জানি কোন শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পড়ালেখা হয়। ♦কওমি মাদরাসায় যারা মাস্টার্স পাশ করবেন। তারা দুটো বিষয়ের উপর মাস্টার্স পাশ করবেন। আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ কিন্তু সাথে থাকবে আরও অনেক দক্ষতা। যেমনঃ → ভালোভাবে উর্দু ও সাধারণভাবে ইংরেজি ভাষা জানা। →কুরআনের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর জানা। → হাদিসের সকল কিতাবের পড়া ব্যাখ্যাসহ জানা। → কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান দেয়া।(মাসয়ালা বলতে পারা যাকে বলে আরকি)। → হাদিসের সনদ অর্জন যা একজন আলেমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভৃতি। কিন্তু আলিয়া মাদরাসায় পড়ে তা অর্জন করা খুবই কঠিন। কয়েকটি তো সম্ভবই না। ♦কওমি মাদরাসার পরীক্ষার জন্য ছাত্ররা কোন সাজেশন খোঁজে না কারণ তারা পরীক্ষার জন্য পড়ে না বরং জানার জন্য পড়ে। বই আদ্যোপান্ত পড়ে ও ভালোভাবে রপ্ত করে সেটা যত বড়ই হোক না কেন। পরীক্ষার হলে কোন ম্যাজিস্ট্রেট লাগে না কারণ তারা আল্লাহকে ভয় করে এবং শিক্ষ...

এ সৃষ্টি কার?

Image
এ সৃষ্টি কার রাতের শেষে স্নিগ্ধ ভোরে পক্ষীকুলের গান; ঝর্ণা, সাগর, নির্ঝরিণী গায়কের একতান। জানো, এসব কার দান ?  তারকায় সাজানো আকাশ নীলিমায় একাকার; বৃক্ষে ভরা সবুজ শ্যামল সুউচ্চ পাহাড়। জানো, এ সৃষ্টি কার ? সৃষ্টি কুলের অধীপতি মহান আল্লাহর। (অনেক আগের লেখা এই ছড়াটি)

ফটোঃ জায়েজ না জায়েজ

Image
ফেসবুকে আপলোড করা ডিজিটাল ছবি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফতোয়া বরাবর, মাননীয় প্রধান মুফতি সাহেব দা.বা. শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার কুড়াতলী,খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯ ♦বিষয়: মোবাইলে ছবি তোলা ও ফেসবুক ইত্যাদিতে তা আপলোড করা প্রসঙ্গে ♦মুহতারাম, বর্তমান আমাদের মাঝে একটি কাজ খুব বেশী হচ্ছে যা আমাদের ক্ষতির কারণ বলে মনে হচ্ছে তা হলো যেখানে সেখানে যতখুশি মোবাইলে ছবি তোলা হচ্ছে। আরও মারাত্মক হচ্ছে এই ছবি ফেসবুকে আপলোড দেয়া হচ্ছে মানুষ এসবকে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে যাচ্ছে। তাছাড়া ওয়াটসআ্যপ, ইমু, ভাইবারে ইচ্ছেমত পিকচার দেয়া-নেয়া হচ্ছে যা অনেক রকম গুনাহের পরিবেশ খুলে দিচ্ছে। প্রথমত জানার বিষয় হলো জরুরত ছাড়া এভাবে ছবি তোলা কি জায়েয হয়ে গেলো? কোন দলীলের ভিত্তিতে হলো? কোন কোন আলেম জায়েয হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন? সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয নাকি নাজায়েয।  দ্বিতীয়ত ফেসবুক, ওয়াটসআ্যপ, ইমু, ভাইবার ইত্যাদিতে ছবি আপলোড ও ডাউনলোড ইত্যাদি জায়েয নাকি নাজায়েয? দলীল দিয়ে রাহনুমায়ী করবেন। ﺍﻟﺠﻮﺍﺏ ﺑﺎﺳﻢ ﻣﻠﻬﻢ ﺍﻟﺼﺪﻕ ﻭﺍﻟﺼﻮﺍﺏ ইসলামী শরীয়ায় সন্দেহাতীতভাবে প্রাণীর ছবি তোলা ও অঙ্কন করা হারাম, একান্ত বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তা তো...

বাসে একদিন -০২

Image
কাঁচপুর ব্রীজের ট্রাফিক সিগন্যাল এখন মগবাজার ট্রাফিক সিগন্যালের মত হয়ে গেছে। সিগন্যালে বসে থাকা বিরক্তিকর তখনই লাগে যখন দুই তিন সিগন্যালেও গাড়ি বের হতে পারে না। আরো খারাপ লাগে, যে গাড়িতে বসে আছি ওই গাড়িটাই যখন ট্রাফিক পুলিশ দাঁড় করায়। তখন এই বলে আক্ষেপ করি, ইশ আরেকটু সময় দিলেই তো আমাদের গাড়িটা বের হয়ে যেত। এই সময় অনেকে আবার পুলিশকেও গালি দেয়। কত কি যে বলে। কেউ যদি বুঝতো ট্রাফিক দায়িত্ব পালন করতে কতটা কষ্ট পোহাতে হয় তাহলে সে কখনো পুলিশকে গালি দিত না।  যাই বলুক তা শুনতে যতটা না খারাপ লাগে তারচে' বেশী খারাপ লাগে যখন কেউ সিগন্যাল শব্দটাকে সিংগেল বলে। একটা লোক বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ সিংগেল সিংগেল বলে যাচ্ছে। এটা শুনতে খুবই খারাপ লাগে আমার কাছে। যাই হোক বাস যখন সিগন্যাল পয়েন্ট অতিক্রম করলো তখন বিভিন্ন মসজিদের মাইকে আসরের আযান শোনা যাচ্ছিলো।  এটা ২০১৬ সালের শেষের দিকের কথা। আমি তখন সোনারগাঁয়ের এক মসজিদের ইমামতি করি। মসজিদের মাহফিলের কাজে চিটাগাংরোডে আসি। কাজ শেষে এখন ফিরতেছি। সাথে ছিলো এক মুসল্লি, পেশা হিসেবে সে সিএনজি চালক। আসরের আযান শুনে সে বললো নামাজ পড়তে হবে। আমি বললাম আমরা মসজিদে ফ...

বাসে একদিন -০১

Image
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে চিটাগাংরোডের উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের ক্লাস শেষে ফিরছিলাম। তখন দুপুর ১টা। রোজার মাসে প্রখর রোদে অনেক গরম লাগছিলো। সাথে ক্ষুদা ও পিপাষাও যেন গরমের সাথে সঙ্গ দিচ্ছে। সব মিলে অনেক ক্লান্তি লাগছিলো। বাসে উঠে দেখি বসার মত কোন জায়গা খালি নেই। এটা দেখে ক্ষুদ-পিপাষা যেন আরও বেড়ে গেলো। এই ছুটির সময় যে বাসে ছিট খালি থাকবে না তাই স্বাভাবিক। বাসের গলিও মানুষে ভরপুর। তবুও চাপাচাপি করে একটু জায়গা বের করে দাঁড়িয়ে গেলাম।  বাসের গলিতে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলাম। আমার ডানের ও বামের চার ছিটে চারজন কলেজের শিক্ষার্থী বসে আছে। ডানে একজন ছেলে ও মেয়ে এবং বামে একজন ছেলে ও মেয়ে। তারা সকলেই কলেজের নির্দিষ্ট পোশাক পরে আছে। তারা পরস্পর ফ্রেন্ডলি কথা বলছে। ফ্রেন্ডলি বলতে 'স্যার' জাফর ইকবাল যা বলেন ঠিক তেমন। তিনি বলেন শিক্ষাজীবনে ছেলে-মেয়ের দূরত্বটা কমাতে হবে। দু'জন ছেলে যেমন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে, ফ্রি মাইন্ডে কথা বলে, হাসি, ঠাট্টাতামাসা করে ছেলে ও মেয়েদের মাঝেও ঠিক এমন হওয়া চাই। নয়তো ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে পরস্পর পড়ালেখা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও সমস্যা শেয়ার করা না ...

শুধু মেয়েদের পোশাককে দায়ী করেন যারা...

Image
শুধু মেয়েদের পোশাককে যারা দায়ী করেন তাদের উদ্দেশ্যে... আল্লাহ তা'আলা শুধু পোশাকের পর্দার কথা বলেন নি। দৃষ্টির পর্দার কথাও বলেছেন। প্রথমে পুরুষের দৃষ্টি ও পোশাকের পর্দার কথা বলেছেন। তারপর মেয়েদের দৃষ্টি ও পোশাকের কথা বলেছেন (সূরা নূর-৩০,৩১)। তাই মেয়েদের পোশাকের পর্দার কথা বলার আগে ছেলেদের দৃষ্টির পর্দার আলোচনা করা খুবই জরুরী। কারণ ছেলেদের ব্যাপারে কিছু না বলে শুধু মেয়েদের কথা বললে মেয়েরা মানা তো দূরের কথা উলটো বিগড়ে যাবে। তাই আল্লাহ তা'আলা যেমন পুরুষ-মহিলা উভয়ের পর্দার আলোচনা একসাথে করেছেন ঠিক সেভাবেই আমাদের লেখালেখি করা উচিত। মেয়েদের পোশাক ও ছেলেদের দৃষ্টি উভয়টি যে কোন যৌন দুর্ঘটনার জন্যে সমানভাবে দায়ী। আমরা যখন আমাদের লেখালেখিতে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবো তখনই আমাদের লেখা কারো হৃদয়ে গ্রথিত হবে। আল্লাহ আমাদের বোঝার তাওফিক দিন। আমীন।।

পয়দা দিবস

Image
আজ আমার পয়দা দিবস। তেইশ বছর পূর্ণ হলো আজ (২৮/১০/২০১৭)। জন্মেছিলাম লালমনিরহাট জেলার সাপ্টিবাড়িতে ১৯৯৪ সালের এই দিনে। আর বড় হয়েছিলাম কুড়িগ্রামের ভিতরবন্দে নানা বাড়িতে। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত ভিতরবন্দ স্কুলে পড়ে ভর্তি হই কুড়িগ্রাম দাশেরহাট মাদরাসার নূরানী বিভাগে(জানুয়ারি'০৬), তারপর কুরআন মুখস্থ শেষ করি রংপুরের মাহিগঞ্জে(জুলাই'০৮)। এরপর চলে আসি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়। এখানেই শেষ করি কওমি মাদরাসার শুরুর ক্লাস থেকে জামাতে মেশকাত ক্লাস পর্যন্ত(মে'১৭)। কওমি মাদরাসা নিয়মিত পড়লেও পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছায় ক্লাস এইটের পরীক্ষা দেই রংপুরের পীরগাছায় পাওটানা মাদরাসা থেকে, যেখানে আমার বাবা জীবনের শেষ পর্যন্ত(ফেব্রুয়ারি'১৩) অধ্যাপনায় নিয়জিত ছিলেন। এরপর বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পরীক্ষা(SSC 2015) দেই লালমনিরহাট কামিল মাদরাসা থেকে। বিজ্ঞান বিভাগে সময় দিতে গিয়ে আমার মূল পড়া কওমি মাদরাসার পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটছে দেখে মানবিকে আলিম পরীক্ষা(HSC 2017) দেই নারায়ণগঞ্জের মদনপুর মাদরাসা থেকে। সবগুলো পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম দুই-থেকে তিন মাস পর্যন্ত। বাকি সময়গুলো কওমি মাদরাসার পড়াশুনায় কাজে লাগিয়েছি। ...

আমার ভাবনা-০৪

Image
একই সংসারে থেকে মা-বাবার খেদমত করতে হবে এটা আল্লাহ বলেননি। আবার আলাদা সংসার করা মানে যে মা-বাবা থেকে আলাদা হওয়া বিষয়টা এমন নয়। ★সন্তান মা-বাবার খেদমত করবে। অন্ন-বস্ত্র-চিকিৎসা দিবে। খাইতে না পারলে খাইয়ে দিবে। পরতে না পারলে পরিয়ে দিবে। বেশী অসুস্থ হলে পাশে থাকবে। কিন্তু স্ত্রী দিয়ে মায়ের খেদমত এটা তো আল্লাহ বলেননি। ★স্বামী স্ত্রীর খরচ বহন করবে। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান দিবে। প্রস্তুতকৃত খাবার সামনে এনে দেয়ার দায়িত্ব স্বামীর। স্ত্রী রান্না করে খাবে এমনও নয়। এমন বাসস্থান দিবে যেখানে অন্য কারো প্রবেশাধিকার নেই। ★স্বামীর খেদমত করবে স্ত্রী। স্বামীর অনুপস্থিতিতে আমানত বজায় রাখবে। নিজের ইজ্জত স্বামীর জন্য হেফাজত করবে। স্বামীর কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সপে দিবে। তার মানে এই নয় স্বামী তার স্ত্রীকে দিয়ে কাজ করাবে। খেদমত তো তাকেই বলা হয় যা স্বইচ্ছায় করা হয়। ★তবে হ্যাঁ, স্বামীর মা-বাবার খেদমত করা স্বামীকে খেদমত করার মত যদি স্বামী রোজগারের কারণে মায়ের খেদমত করতে না পায়। স্বামী যদি কাজের মেয়ে রেখে স্ত্রীর খাবার রেডি করতে না পারে তাহলে স্বামীর ব্যস্ততার কারণে নিজে পাকিয়ে খাবে এবং স্বামীর জন্যও পাকাবে মহব্বতের ...

আমার ভাবনা-০৩

Image
 পত্রিকায় নিয়মিত চোখে পড়ে... ১। প্রবাসীর স্ত্রী পরকিয়ায় ফেরার... ২। গ্রামের মেয়ে সানজিদা বখাটেদের ধর্ষণের শিকার... ৩। স্কুল-কলেজের মেয়েরা রাস্তার বখাটেদের ভয়ে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না... ৪। বিয়ের আগে গর্ভবতি... ৫। যুবক-যুবতিদের অবাধ মেলামেশায় পার্ক ও গার্ডেনগুলো পতিতালয় সাদৃশ... ৬। বাসে লোকের ভিরে কলেজের টিচার লাঞ্ছনার শিকার... ৭। প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার খুন... ৮। কলেজের ছেলেরা ডাকাত ও গুণ্ডা হয়ে যাচ্ছে... ৯। আধুনিক ছেলে মেয়েরা গভীর রাতে ঘরে ফিরছে... . আপনি একটু বিবেচনা করে দেখুন... এসব টিভিসিনেমায় অভিনীত দৃশ্যের বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।

আমার ভাবনা-০২

Image
দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর জিজ্ঞেস করলাম সবসময় জিন্সের প্যান্টে দুই হাতের চার আঙ্গুল পকেটে রেখে কানে হেডফোন লাগিয়ে এলিয়ে দুলিয়ে আপনার মত অনেককে রাস্তায় চলতে দেখা যায়; যা আগে ছিলো না। এভাবে চলার ভঙ্গি কার কাছ থেকে শিখলেন? জবাবে বলেছে, আরে ভাই! দেব, আমার বস... বুঝলাম তার বসের অনুসারী সে। . দুই মেয়েকে নিয়ে বোরকা পরিহিতা মা যাচ্ছে... শান্ত স্বরে কঠোর ভাষায় জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ছোট থাকতে গলায় পেঁচিয়ে পিছনে ওড়না পরতেন? মহিলা বিরক্তি সুরে বললো "না"। পরে বললাম তাহলে এই বড়(১৬,১৮) মেয়ে দুটিকে পিছনে ওড়না দেয়া শেখালো কে? মহিলা কিছুটা থতমত খেয়ে বললো "এই, পাখি জামার বায়না ধরেছে তাই তার বাবা...।" . এভাবেই আজ মুসলিম যুবক "দেব" সাঁজছে। মুসলিম যুবতি হাফহাতার ওড়নাবিহীন "পাখি" বনে যাচ্ছে...।

আমার ভাবনা-০১

Image
সংস্কৃতি বলা হয় কোন ব্যক্তি, জাতি বা গোষ্ঠির বিশ্বাস ও চিন্তাধারার বাস্তব রূপকে। . মানুষ কোন কিছু গ্রহণ করার আগে বা পছন্দ করার আগে সে ওই জিনিসের তুলনা খোঁজে। যেমন কেউ কাপড় কিনবে। এখন হয়তো সে তার বন্ধু/বান্ধবীর দিকে তাকাবে, পরিবারের ঐতিহ্যের দিকে তাকাবে, কিংবা সমাজের লোকদের দিকে তাকাবে ইত্যাদি। সে তার বন্ধুর কাপড়ের তুলনায় কাপড় কিনলে সে তার বন্ধুর সংস্কৃতি গ্রহণ করলো। পরিবারের দিকে তাকালে পরিবারের সংস্কৃতি গ্রহণ করলো। এভাবে যে ক্ষেত্রে যার সাথে তুলনা করবে সে তার সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে বলে ধরে নেয়া হবে। . মধ্যযুগে রাজারা নিজেদের সংস্কৃতি ছড়াতে বিভিন্ন উপায় গ্রহণ করতো। যেমন, প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, মেলা, অভিনয়-নাট্য ইত্যাদি। বর্তমান নাটক, ছায়াছবি, সিনেমা, টেলিফিল্ম ইত্যাদি সংস্কৃতি ছড়ানোর মূল মাধ্যম। এগুলোর মাধ্যমে মানুষ আধুনিকতার নামে বিভিন্ন সংস্কৃতি গ্রহণ করছে। যার নমুনা পাগলু ও পাখি জামা, হানিমুন, ডেটিং, লিভটুগেদার, ওড়নাবিহীন চলাফেরা এমন হাজার নমুনা পাবেন যা ইসলামী সংস্কৃতি নয় কিন্তু মুসলমানরা তা গ্রহণ করছে।

ইচ্ছে করে

Image
ইচ্ছে করে উড়ে যেতে পবিত্র মক্কায়, কালো গিলাফে মোড়ানো ঘর স্থিত যেথায়। । ইচ্ছে করে পাখনা মেলে যাবো মদিনায়, যেথায় আছেন মোদের নবি পবিত্র রওজায়। । ইচ্ছে করে হারিয়ে যেতে সুদূর নীলিমায়, লোভ হিংসা ও অহঙ্কারের বিনাশ নেই যেথায়। । ডায়েরী থেকে ২০১০

মোনাজাত

Image
প্রভু তুমি মোদের মালিক আমরা তোমার দাস; দুরুদ তোমার দূতের তরে যিনি মোদে আশ্। । পাপী গোলাম তোমার কাছে করছে ফরিয়াদ ; গোনা-খাতা ক্ষমা করে কবুল করো কাঁদ। । কোরান-হাদিস তলব করে তোমায় পেতে চাই; দ্বীনের বড় খাদেম হতে  তব তাওফীক্ব চাই। । ডায়েরী থেকে ২০০৯

তুমি মুসলিম

Image
তুমি মুসলিম, তুমি মুক্ত, আল্লাহ তোমার প্রভূ, জেগে ওঠো সাহস নিয়ে ভয় করো না কভু ।। তুমি অমর, তুমি অজেয়, গুরু তোমার আহমদ, নাঙ্গা তলোয়ার হাতে নিয়ে করো জাতির খেদমত ।। তুমি সত্য, ইসলাম সত্য, সত্য তোমার নবী, সত্যের পথে গুপ্ত কাটা দূর করে দাও সবি ।। ডায়েরী থেকে ২০০৮

টি.এস.সি তে একদিন

Image
ব্যানবেইস ভবন থেকে বের হয়ে হাঁটা শুরু করলাম জাতীয় যাদুঘরের উদ্দেশ্যে। ঢাবির ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে হাঁটতে আগে ভালো লাগতো এখন কেমন জানি লাগে 😒। যাই হোক আসল কথায় আসি। টিএসসি মোড় হয়ে বামে ঘুরতে যাবো এমন সময় যে দৃশ্যটি দেখতে পেলাম তা নিয়ে আজকের এই লেখা। প্যান্টশার্ট পড়া দুই ছেলে ও এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের প্রত্যেকের পিঠে ব্যাগ। বাসের অপেক্ষায় আছে। আমি যখন তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, তখন এক ছেলে মেয়েটার কপোলে পড়ে থাকা এলোমেলো চুল গুলো ঠিক করে দিতে দিতে বললো, "দোস, তুই না আজকে আমার সাথে যাবি বলেছিলি?" জবাবে মেয়েটাও নিজের চুলগুলো ঠিক করতে করতে বললো, "নারে দোস, আজ আর যাওয়া হচ্ছে না" ছেলেটা জবাবে কি বললো তা আর শুনিনি কারণ, আমি ততক্ষণে তাদের অতিক্রম করে চলে এসেছি। একটু এগিয়ে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলাম তাদের দু'জন লাল বাসে উঠে গেলো। বুঝলাম, তারা ঢাবিয়ান; দেশের উন্নত ও 'শিক্ষিত' জাতি। এটা সাধারণ দৃশ্য, দোস্তদের মাঝে যে আরো কতরকম 'ফ্রেন্ডলি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ' দেখা যায় তা লেখার মত না। ধুৎ, কেন জানি এ দৃশ্যগুলো আমার চোখে পড়ে। অথচ এসব দেখার আমার কোন ইচ্ছে থাকে না।