বাসে একদিন -০১

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে চিটাগাংরোডের উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের ক্লাস শেষে ফিরছিলাম। তখন দুপুর ১টা। রোজার মাসে প্রখর রোদে অনেক গরম লাগছিলো। সাথে ক্ষুদা ও পিপাষাও যেন গরমের সাথে সঙ্গ দিচ্ছে। সব মিলে অনেক ক্লান্তি লাগছিলো। বাসে উঠে দেখি বসার মত কোন জায়গা খালি নেই। এটা দেখে ক্ষুদ-পিপাষা যেন আরও বেড়ে গেলো। এই ছুটির সময় যে বাসে ছিট খালি থাকবে না তাই স্বাভাবিক। বাসের গলিও মানুষে ভরপুর। তবুও চাপাচাপি করে একটু জায়গা বের করে দাঁড়িয়ে গেলাম।

 বাসের গলিতে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলাম। আমার ডানের ও বামের চার ছিটে চারজন কলেজের শিক্ষার্থী বসে আছে। ডানে একজন ছেলে ও মেয়ে এবং বামে একজন ছেলে ও মেয়ে। তারা সকলেই কলেজের নির্দিষ্ট পোশাক পরে আছে। তারা পরস্পর ফ্রেন্ডলি কথা বলছে। ফ্রেন্ডলি বলতে 'স্যার' জাফর ইকবাল যা বলেন ঠিক তেমন। তিনি বলেন শিক্ষাজীবনে ছেলে-মেয়ের দূরত্বটা কমাতে হবে। দু'জন ছেলে যেমন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে, ফ্রি মাইন্ডে কথা বলে, হাসি, ঠাট্টাতামাসা করে ছেলে ও মেয়েদের মাঝেও ঠিক এমন হওয়া চাই। নয়তো ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে পরস্পর পড়ালেখা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও সমস্যা শেয়ার করা না হলে মেধা ও প্রতিভার অপচয় হবে।
ঠিক এরাও এমন ফ্রেন্ডলি আচরণ করে যাচ্ছে এই আর কি।

 দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর বাম পাশে বসা ছেলেটা নেমে গেলো। ক্লান্ত দেহটাকে একটু স্বস্তি দিতে অন্য কোন ছিট খালি না পেয়ে ওই ছিটেই বসে পড়লাম। পাশে বসা মেয়েটা থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখলাম। আমি বসার সাথে সাথে মেয়েটার ওড়না পরার ধরণ পালটে গেলো। জানালার পাশ ঘেষে আটোসাটো হয়ে আমার থেকে দূরে বসার চেষ্টা করছে। আগে বলে নেই আমি একজন মাদরাসা ছাত্র। তাই আমার পোশাক সাদা পাজামা-পাঞ্জাবী ও মাথায় টুপি। এই পোশাকের কারণে হয়তো তার এই অতিরিক্ত সংকোচবোধ দেখা যাচ্ছে। আমার দৃষ্টি মোবাইলের স্ক্রিনে হলেও তার এই অবস্থা কিছুটা বোঝা যাচ্ছে।

 আর এক কিলোমিটার পর ডান পাশের ছিটে বসা ছেলেটাও নেমে গেলো। সেই সাথে এই মেয়েটা চলে গেলো ডান পাশে বসা মেয়েটা কাছে। আমিও দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে বসিয়ে দিলাম মেয়েটার রেখে যাওয়া খালি ছিটে। রোজার মাসে খা খা রোদের গরমে ক্লান্ত দেহের অবসাদ মনে একটা ভাবনাই ভাবতে লাগলাম, তারা তো বাসে ওঠার সময়ই মেয়ে দু'জন পাশাপাশি ও ছেলে দু'জন পাশাপাশি বসতে পারতো কিন্তু বসলো না কেন? আবার হুজুর-পোশাক দেখে এত সংকোচই বা কেন?

Comments