দাওরায়ে হাদিস ও মাস্টার্স
১৭ বছরের মাস্টার্স বনাম ১০ বছরের দাওরায়ে হাদীস
♦আমি একই সাথে কওমি মাদরাসা ও আলিয়া মাদরাসার ছাত্র। রমজানের পর দাওরায়ে হাদিস পড়বো ইনশাআল্লাহ আর এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছি। সুতরাং আমিই ভালো করে জানি কোন শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পড়ালেখা হয়।
♦কওমি মাদরাসায় যারা মাস্টার্স পাশ করবেন। তারা দুটো বিষয়ের উপর মাস্টার্স পাশ করবেন। আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ কিন্তু সাথে থাকবে আরও অনেক দক্ষতা।
যেমনঃ
→ ভালোভাবে উর্দু ও সাধারণভাবে ইংরেজি ভাষা জানা।
→কুরআনের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর জানা।
→ হাদিসের সকল কিতাবের পড়া ব্যাখ্যাসহ জানা।
→ কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান দেয়া।(মাসয়ালা বলতে পারা যাকে বলে আরকি)।
→ হাদিসের সনদ অর্জন যা একজন আলেমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভৃতি।
কিন্তু আলিয়া মাদরাসায় পড়ে তা অর্জন করা খুবই কঠিন। কয়েকটি তো সম্ভবই না।
♦কওমি মাদরাসার পরীক্ষার জন্য ছাত্ররা কোন সাজেশন খোঁজে না কারণ তারা পরীক্ষার জন্য পড়ে না বরং জানার জন্য পড়ে। বই আদ্যোপান্ত পড়ে ও ভালোভাবে রপ্ত করে সেটা যত বড়ই হোক না কেন। পরীক্ষার হলে কোন ম্যাজিস্ট্রেট লাগে না কারণ তারা আল্লাহকে ভয় করে এবং শিক্ষকদেরকে খুবই শ্রদ্ধা করে। আর আলিয়া মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় যে এর বিপরীত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
♦কওমি মাদরাসাগুলো আবাসিক হয়ে থাকে। আমি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, একজন কওমি ছাত্রকে দিনে ন্যূনতম ১৩-১৪ ঘণ্টা পড়াশুনা করতে হয়। কেউ কেউ এরচেয়ে বেশি সময়ও পড়াশুনা করে। এর বিপরীতে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী শত চেষ্টা করলেও দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি পড়তে পারে না। কেউ কেউ তো সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা পড়ে। এর সবচেয়ে বড় কারণ, অনাবাসিক হওয়ার কারণে যাতায়াতের পেছনে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। কাজেই কওমি মাদরাসায় কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ পরিমাণ সদ্ব্যবহার হয়। তবে দারুন নাজাত মাদরাসা এর কিছুটা ব্যতিক্রম।
♦সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির পরিমাণ অনেক বেশি। শীতকালীন ছুটি, গ্রীষ্মকালীন ছুটি, বার্ষিক ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা, ধর্মীয় উৎসব। এ ছুটিগুলোর একটিও কওমি মাদরাসায় নেই।
বিভিন্ন পরীক্ষার আগে-পরে সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতে যে পরিমাণ ছুটি দেওয়া হয়, তা কওমি মাদরাসার তুলনায় দ্বিগুণ। কোথাও কোথাও তিনগুণ। যার কারণে কওমি মাদরাসায় কর্মদিবসের সংখ্যা অনেক বেশি।
♦কওমি মাদরাসার নিয়ম হলো, শিক্ষার্থী যতো উপরের দিকে ওঠে তার ক্লাসের পরিমাণ ততো বাড়ে। সাধারণ শিক্ষায় এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কমতে কমতে সপ্তাহে পাঁচ দিন, দিনে মাত্র তিন ক্লাসে নেমে আসে।
মরার ওপর খরার ঘা হয়ে আসে সেশন জট, ছাত্র আন্দোলন, ক্লাস বর্জন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষকদের ক্লাসে অনুপস্থিতি।
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, এই গযবনাক সমস্যাগুলোর একটিও কওমি মাদরাসায় নেই।
♦কাজেই তর্ক করে নয়, বাস্তবতার আলোকেই বলছি, পড়াশুনার মান, শিক্ষাব্যবস্থা, সময়ের সদ্ব্যবহার ও আন্তরিক পরিবেশে পাঠদানের কারণে কওমি শিক্ষার্থীরা যতো দ্রুত কোর্স সম্পন্ন করতে পারে, তা অন্যরা নানাবিধ জটিলতার কারণে পারে না।
আমি পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, কওমি মাদরাসার পাঠদানপদ্ধতি যদি সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হয় তাহলে মাত্র ১১ বছরে মাস্টার্স কমপ্লিট করা সম্ভব।
এবার সিদ্ধান্ত আপনার হাতে।
♦যারা কওমি মাদরাসার সিলেবাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা হয় কওমি মাদরাসার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস জানে না কিংবা কওমি মাদরাসা শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানে না।
(Edited & Added)
♦আমি একই সাথে কওমি মাদরাসা ও আলিয়া মাদরাসার ছাত্র। রমজানের পর দাওরায়ে হাদিস পড়বো ইনশাআল্লাহ আর এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছি। সুতরাং আমিই ভালো করে জানি কোন শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পড়ালেখা হয়।
♦কওমি মাদরাসায় যারা মাস্টার্স পাশ করবেন। তারা দুটো বিষয়ের উপর মাস্টার্স পাশ করবেন। আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ কিন্তু সাথে থাকবে আরও অনেক দক্ষতা।
যেমনঃ
→ ভালোভাবে উর্দু ও সাধারণভাবে ইংরেজি ভাষা জানা।
→কুরআনের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর জানা।
→ হাদিসের সকল কিতাবের পড়া ব্যাখ্যাসহ জানা।
→ কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান দেয়া।(মাসয়ালা বলতে পারা যাকে বলে আরকি)।
→ হাদিসের সনদ অর্জন যা একজন আলেমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভৃতি।
কিন্তু আলিয়া মাদরাসায় পড়ে তা অর্জন করা খুবই কঠিন। কয়েকটি তো সম্ভবই না।
♦কওমি মাদরাসার পরীক্ষার জন্য ছাত্ররা কোন সাজেশন খোঁজে না কারণ তারা পরীক্ষার জন্য পড়ে না বরং জানার জন্য পড়ে। বই আদ্যোপান্ত পড়ে ও ভালোভাবে রপ্ত করে সেটা যত বড়ই হোক না কেন। পরীক্ষার হলে কোন ম্যাজিস্ট্রেট লাগে না কারণ তারা আল্লাহকে ভয় করে এবং শিক্ষকদেরকে খুবই শ্রদ্ধা করে। আর আলিয়া মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় যে এর বিপরীত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
♦কওমি মাদরাসাগুলো আবাসিক হয়ে থাকে। আমি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, একজন কওমি ছাত্রকে দিনে ন্যূনতম ১৩-১৪ ঘণ্টা পড়াশুনা করতে হয়। কেউ কেউ এরচেয়ে বেশি সময়ও পড়াশুনা করে। এর বিপরীতে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী শত চেষ্টা করলেও দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি পড়তে পারে না। কেউ কেউ তো সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা পড়ে। এর সবচেয়ে বড় কারণ, অনাবাসিক হওয়ার কারণে যাতায়াতের পেছনে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। কাজেই কওমি মাদরাসায় কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ পরিমাণ সদ্ব্যবহার হয়। তবে দারুন নাজাত মাদরাসা এর কিছুটা ব্যতিক্রম।
♦সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির পরিমাণ অনেক বেশি। শীতকালীন ছুটি, গ্রীষ্মকালীন ছুটি, বার্ষিক ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা, ধর্মীয় উৎসব। এ ছুটিগুলোর একটিও কওমি মাদরাসায় নেই।
বিভিন্ন পরীক্ষার আগে-পরে সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতে যে পরিমাণ ছুটি দেওয়া হয়, তা কওমি মাদরাসার তুলনায় দ্বিগুণ। কোথাও কোথাও তিনগুণ। যার কারণে কওমি মাদরাসায় কর্মদিবসের সংখ্যা অনেক বেশি।
♦কওমি মাদরাসার নিয়ম হলো, শিক্ষার্থী যতো উপরের দিকে ওঠে তার ক্লাসের পরিমাণ ততো বাড়ে। সাধারণ শিক্ষায় এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কমতে কমতে সপ্তাহে পাঁচ দিন, দিনে মাত্র তিন ক্লাসে নেমে আসে।
মরার ওপর খরার ঘা হয়ে আসে সেশন জট, ছাত্র আন্দোলন, ক্লাস বর্জন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষকদের ক্লাসে অনুপস্থিতি।
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, এই গযবনাক সমস্যাগুলোর একটিও কওমি মাদরাসায় নেই।
♦কাজেই তর্ক করে নয়, বাস্তবতার আলোকেই বলছি, পড়াশুনার মান, শিক্ষাব্যবস্থা, সময়ের সদ্ব্যবহার ও আন্তরিক পরিবেশে পাঠদানের কারণে কওমি শিক্ষার্থীরা যতো দ্রুত কোর্স সম্পন্ন করতে পারে, তা অন্যরা নানাবিধ জটিলতার কারণে পারে না।
আমি পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, কওমি মাদরাসার পাঠদানপদ্ধতি যদি সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হয় তাহলে মাত্র ১১ বছরে মাস্টার্স কমপ্লিট করা সম্ভব।
এবার সিদ্ধান্ত আপনার হাতে।
♦যারা কওমি মাদরাসার সিলেবাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা হয় কওমি মাদরাসার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস জানে না কিংবা কওমি মাদরাসা শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানে না।
(Edited & Added)

Comments
Post a Comment