পথেঘাটে দর্শক-গ্যালারি
চায়ের বিল দিচ্ছিলাম, দোকানদার হাত দিয়ে বিলটা নিলেও তাকিয়ে ছিলো ভিন্ন দিকে। আমিও তাকালাম সেদিকে। দেখলাম, এক যুবক আর এক যুবতী হেঁটে যাচ্ছে, কথা বলছে হাসি মুখে। মেয়েটা ওড়না বিহীন শর্ট জামা ও টাইট প্যান্ট পরিহিত। আশে পাশের সবাই তাকিয়ে আছে তার দিকে। সামনের পিছনের ডানের বামের সবাই তাকচ্ছে তাদের দিকে।
বাসের হেল্পার রিকশাচালককে সতর্ক করলেও তাকিয়ে আছে সেদিকে। বাদাম বিক্রেতা বাদাম বাদাম করলেও তাকিয়ে আছে সেদিকে। দূরপাল্লার বাসের জানালা দিয়ে কিছু দৃষ্টিও মিস করছে না এই দৃশ্য। এ এক অভাবনীয় দৃশ্য। সবার চাহনি থেকে ঠিকরে পড়ছে মুগ্ধতা ও লালসা। কারো বা চাহনিতে রয়েছে কামুকতা। তবে দু একজনের চাহনিতে নেই মুগ্ধতা বা লিপ্সা, আছে শুধু ঘৃণা আর ঘৃণা।
তারা দু'জন যেদিক দিয়ে যাচ্ছে, সেদিকেই এক অসাধারণ দর্শক-গ্যালারী সৃষ্টি হচ্ছে। এই পথে আরও অনেক যুগল হেটে যাচ্ছে কিন্তু কেউ তো তাদের দিকে তাকাচ্ছে না। তাহলে এদের দিকে তাকাচ্ছিলো কেন? কী ছিলো তাদের মাঝে? কারণ একটাই, নয়া যৌবনে ভরা এক অসম্ভব সুন্দরী যখন শর্ট জামা ও টাইট প্যান্ট পরে হেসে খেলে হেটে যায় তখন কার না দেখতে মনে না চায়!
চায়ের দোকানটির সামনেই এক মহিলা ভ্যানে করে কিছু লুঙ্গী নিয়ে বসে আছে। তার পাশে থাকা ছোট মাইক থেকে ভেসে আসছে "বাইছা লন, একশো তিরিশ। দেইখা লন, একশো তিরিশ। জোরসে বলো, একশো তিরিশ" মানে, লুঙ্গীর একদাম ১৩০/- এভাবে শ্লোগান দিয়ে কাস্টমারকে আকর্ষণ করছে আর কি। যুবক-যুবতী দু'জন তখন অনেক দূরে গেলেও মহিলাটি তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। চোখ দু'টো সেদিক থেকে কাস্টমারের দিকে ফিরিয়ে নেয়ার সময় স্বগত স্বরে বলতে লাগলো "বেহায়া কোনানকার"।
এ এক বাস্তবতা;
দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
০১-০৩-২০১৮ খৃস্টাব্দ

Comments
Post a Comment