Posts

Showing posts from April, 2018

পড়ালেখা ও মোবাইল

Image
কাল সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। "পড়ালেখা" আমার সাথে ভাব নিয়ে 😎 বলছে, "এতদিন তো পড়ো নাই, বুঝো এবার, আমার বোঝা যে কত্ত ভারী!" আমি মুচকি হেসে ☺ জবাব দিলাম, "ভাব নিও না, সামনে থেকে তোমাকে আগে থেকেই হালকা করে রাখবো ইনশাআল্লাহ" "পড়ালেখা" তার মুখে একটা ভেংচি একে 😏 বললো, "হুঁহ, পরিক্ষাটা শেষ হলেই যে আমায় কোন শিকেয় তুলে রাখবা তা আমার ভালো করেই জানা আছে" এ কথা শুনে হাতে থাকা মোবাইল ফোন খিলখিলিয়ে হেসে 😂 বললো, "দেখতে হবে না, আমি তার গার্লফ্রেন্ড; তার পুরোটা সময় শুধুই আমার" আমি নির্বাক, নিশ্চুপ 😶 [১ম সেমিস্টার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।]

লিফটের সেই মেয়েটি

Image
এক. বাসে বসে অবসর সময় কাটাতে ফেসবুক ব্রাউজ করছিলো রফিক। কিছুদিন যাবৎ সে একটা বিষয় খেয়াল করছে, তার প্রতিটা পোস্টে 'চাঁদের আলো' নামে একটা আইডি সবার আগে লাভ রিয়াক্ট দেয় ও কমেন্ট করে। প্রতিটা কমেন্টে থাকে ভূয়সী প্রশংসা ও শুভ কামনা। দু'দিন আগে মেসেজে লিখেছে, 'I want to like you', মনে মনে হাসে কিন্তু রিপ্লাই দেয়নি সে। আইডিতে ঢুকে দেখে ব্যক্তিগত কোন তথ্য নেই; আছে সুন্দর সুন্দর লেখা ও কবিতা। ছেলে না মেয়ের আইডি তাও বোঝার উপায় নেই। হঠাৎ রফিক খেয়াল করলো এক ভদ্রলোক তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। দেখতে অভিজাত বংশের। মনে হচ্ছে লোকাল বাসে উঠতে অভ্যস্থ না। সে সাথে সাথে ছিট ছেড়ে দিয়ে ভদ্রলোককে বসতে অনুরোধ জানায়। ভদ্রলোক না করলে সে বললো, 'আমি এতক্ষণ বসাই ছিলাম একটু পর আমি নেমে যাবো, আপনি বসুন আপনার ভালো লাগবে।' লোকটি ধন্যবাদ জানিয়ে বসে পড়লো। এমন সময় পিছনে চেঁচামেচি শুনতে পেয়ে রফিক ফিরে তাকালো। দেখলো অনেকেই রুমাল, মাস্ক ইত্যাদি দিয়ে নাক ঢাকছে, কেউ জানালা দিয়ে থুথু ফেলছে। এক বয়স্ক মহিলাকে উদ্দেশ্য করে কয়েকজন গালাগালি করছে। কারণ, মহিলা বাসের গলিতে প্রচুর বমি করেছে। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম তা...

কোটা সংস্কার

Image
এক. রাতুল দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা শেষে একটা বাস পেলো। যাত্রী ভরা বাস তবুও উঠে পড়লো। টিউশন শেষে ফিরছিলো সে। রাত ৯টা বাজে। এখন মেসে যাবে। গিয়ে খাবে কিছু। দুপুরে তো খায়নি, বিকেলে হালকা নাশতাও করেনি। রাতুলের বয়স ২৯। সাড়ে পাঁচফুট লম্বা। মেদহীন স্লিম বডি। সৌন্দর্যে অতুলনীয়, দেখতে অসম্ভব সুন্দর। পোশাকেও স্মার্ট। মুখে রয়েছে কিছু খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। কত মেয়ে যে তাকে প্রপোজ করেছে তা হিসেবের বাইরে। কিন্তু কারো ডাকে সাড়া দেয়নি। কারণ সে ক্লাস টেন থেকে ভালোবাসে একজনকে। এখনো তারা একে অপরের জান-প্রাণ। একজন আরেকজনে না দেখে ঘুমায় না কোন দিন। তাদের মাঝে অনেকবার ঝগড়া হয়েছে, ব্রেকআপ হয়েছে কিন্তু তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার ব্রেকআপ হয়নি কখনো। রাতুল একটা ছিট খালি পেয়ে বসে যায়। টিস্যু পেপার বের করে ঘাম মুছতে থাকে। ভাবতে থাকে, আর কত কষ্ট করতে হবে তাকে। ঢাকা কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে পড়েছে সে। ইচ্ছে ছিলো বিসিএস ক্যাডার হবে। প্রিলি পার করে রিটেনেও টিকে যায় কিন্তু বিপত্তি ঘটে মেধা তালিকায়। পর্যাপ্ত আসন অনুযায়ী মেধা তালিকায় টিকলেও কোটার জন্য বরাদ্ধকৃত আসনের জন্যে ছিটকে পড়ে সে। বাড়ির বড় ছেলে সে। তিনদিন যাবৎ তার বাবা হসপিটালে, আজ ...